বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জাজ জিনেট ভার্গাস এক রায়ে এই নীতিকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ (patently unlawful) ঘোষণা করে কার্যকর থাকা স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ঘটনার মূল পটভূমি
নীতি জারি: ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এক নীতিমালার মাধ্যমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলোম্বিয়া ও নাইজেরিয়াসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী (ইমিগ্রান্ট) ভিসা প্রদান স্থগিত করে।
দফতরের অজুহাত: মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা জনকল্যাণমূলক তহবিলের ওপর নির্ভর করতে পারেন (public charge)।
মামলা দায়ের: ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক, আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়ের করে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত
আইনের তোয়াক্কা না করা: বিচারক উল্লেখ করেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা দেওয়া বন্ধ করার এখতিয়ার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র দফতরের নেই।
ব্যক্তিগত মূল্যায়ন: মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুসারে প্রতিটি আবেদনকারীর আর্থিক সঙ্গতি পৃথকভাবে যাচাই করার নিয়ম রয়েছে, যা এই নীতিতে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
আগের সিদ্ধান্ত বাতিল: নীতিটি বাতিলের পাশাপাশি এর অধীনে যেসব আবেদন পূর্বে খারিজ করা হয়েছিল, সেগুলোকে নতুন করে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
নতুন রায়ের প্রভাব
এই রায়ের ফলে স্থগিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়াকরণ পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো। তবে এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা নিশ্চিত হবে না; প্রত্যেক আবেদনকারীর যোগ্যতা ও নথিপত্র মার্কিন ভিসা আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।
একটি উত্তর দিন