বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সাবেক সিইও এস এম ফরমানুল ইসলামকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
২৪ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগ
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রের তথ্য:
* নিয়মবহির্ভূত ঋণের চাপ: বিআইএফএফএলের সাবেক সিইও এস এম ফরমানুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সালমান এফ রহমানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ‘তিস্তা সোলার প্রজেক্ট’-এর জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা (১৮৫ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রস্তাব অনুমোদন করতে চাপ দেওয়া হয়। এছাড়া জামানত ছাড়া শতকোটি টাকার ঋণ ও ২০০ কোটি টাকার জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগের জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল।
* শারীরিক নির্যাতন ও পদত্যাগ: প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার অজুহাতে ফরমানুল ইসলাম ওই ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই সংস্থার ৮০তম বোর্ড সভায় তাঁর ওপর চড়াও হওয়া হয়। আসামিরা তাঁর কলার ধরে মারধর করেন, প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেন।
* মামলা ও আসামিবৃত্ত: ঘটনার দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ফরমানুল ইসলাম ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলাটি করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
আদালতের বর্তমান অবস্থা
আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেখান যে, মামলার অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য এবং অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আদালত জামিন আবেদন মঞ্জুর করলেও মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। তবে এ মামলায় জামিন পেলেও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অন্য বেশ কিছু মামলা চলমান থাকায় তিনি কারাগারেই থাকছেন।
একটি উত্তর দিন