বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করা হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করা নিয়ে প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সরকারের প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে শপথ নেওয়া হুমায়ুন কবির পূর্বে ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। তবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক তথ্য মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বা পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সুবিধার্থে তিনি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর সাধারণ (সবুজ) পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন এবং পরবর্তীতে সরকারি (অফিসিয়াল) পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে সফরও করেছেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন জমা দিয়েছেন কি না—সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকারি সূত্রের কাছেও এ সংক্রান্ত কোনো আবেদন বা দলিলের তথ্য নেই।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন বা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী পদের জন্য যোগ্য হবেন না। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সাধারণ পাসপোর্ট সমর্পণ করলেই দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না; কোনো দেশের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়।
উল্লেখ্য, সিলেট-১ আসনের ওসমানীনগরে জন্মগ্রহণকারী হুমায়ুন কবির শৈশবেই যুক্তরাজ্যে যান এবং যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সম্প্রতি তাঁর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সামনে আসতেই সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
একটি উত্তর দিন