তিন দশকের অনিশ্চিত জীবনযাত্রার পর ধামরাইয়ের রূপনগর বেদে পল্লীর পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। স্থায়ী ঠিকানা ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য খাসজমি বরাদ্দ, ২৫ জন নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান এবং পল্লীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের রূপনগর এলাকার বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ ফরিদা খানম।
উদ্যোগ ও সহায়তার মূল বিষয়সমূহ:
স্থায়ী আবাসন: দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে অন্যের জায়গা বা নৌকায় বসবাস করে আসা রূপনগর বেদে পল্লীর পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নারীদের আত্মকর্মসংস্থান: জেলা প্রশাসনের ‘হ্যালো ডিসি’ কার্যক্রমের আওতায় আবেদন জানানোর পর বেদে পল্লীর ২৫ জন নারীকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন বরাদ্দ: পল্লীর সামগ্রিক আবাসন, জীবনমান ও সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নে উপজেলা পরিষদের বিশেষ তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেকের অনুদান দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট রূপনগর বেদে পল্লী সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম, যা গত তিন দশকের মধ্যে প্রথম কোনো জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন। সেখানে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের মৌলিক সমস্যা ও আবাসন সংকটের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন, যার সুফল হিসেবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, “পিছিয়ে পড়া কোনো জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের বাইরে রাখা যাবে না। বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদের স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা, আত্মকর্মসংস্থান তৈরি এবং সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।”
খাসজমি বরাদ্দ ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় রূপনগর বেদে পল্লীর পরিবারগুলোতে এখন নতুন করে বাঁচার ও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আশা সঞ্চারিত হয়েছে।
একটি উত্তর দিন