সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পর্যায়সহ রাজধানী ঢাকায় একের পর এক কনসার্ট স্থগিত এবং নানা অজুহাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্পীরা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে নির্দিষ্ট অনুমতি থাকা সত্ত্বেও উগ্রবাদী একটি গোষ্ঠীর আপত্তির মুখে ব্যান্ড অ্যাশেজের কনসার্ট শেষ মুহূর্তে বাতিল করে জেলা প্রশাসন। একই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অনুষ্ঠান পণ্ড করার ঘটনা ঘটে। এর পাশাপাশি ঢাকার একাধিক কনসার্ট এবং বিভিন্ন স্থানে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ধারাবাহিক বাধার বিষয়েও সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
শিল্পীরা বলেন, এসব বাধার কারণে কেবল শিল্প চর্চায় আঘাত আসছে না, বরং তরুণ সমাজ, যন্ত্রশিল্পী এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হাজারও কর্মীর জীবন ও অর্থনীতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা মূল দাবিগুলো:
* নিরাপত্তা ও পরিবেশ: মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা ও কনসার্ট আয়োজনে প্রশাসনকে কোনো গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
* শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পীদের ওপর হামলা কিংবা বাধা প্রদানকারী উগ্র চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
* স্পষ্ট নীতিমালা: শেষ মুহূর্তে প্রশাসন থেকে অনুমতি বাতিলের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা বন্ধ করে সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
শিল্পী সমাজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে একটি জাতির আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। অপসংস্কৃতি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চালু রাখার বিকল্প নেই। অনতিবিলম্বে দেশের সর্বত্র মুক্ত সংস্কৃতি চর্চার অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত না করা হলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
একটি উত্তর দিন