মাদক শুধু একজন মানুষের জীবনই ধ্বংস করে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজের ওপরও। তাই মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা ও সংশোধনের সুযোগ। এমন ভাবনা থেকেই চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম আকাশ নিয়েছেন ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগ।
মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিকবার মামলা ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের শাহজালাল ও হেলাল। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তারা আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার শুধু আইনি ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের সংশোধনের উদ্যোগ নেন ওসি আজিজুল ইসলাম। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই দুই ব্যক্তিকে থানায় ডেকে এনে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, শাহজালাল ও হেলালের বিরুদ্ধে এর আগে একাধিক মাদক মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এসবের পরও তারা পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ভিন্নধর্মী এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিন দিনের তাবলিগ শেষে মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে তারা কচুয়া থানায় ফিরে ওসি মো. আজিজুল ইসলাম আকাশের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করে স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শাহজালাল ও হেলাল জানান, তারা এখন থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন, প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে যাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকবেন।
ওসি মো. আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, শুধু মামলা ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সব সময় মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের নৈতিকভাবে পরিবর্তনের সুযোগও দিতে হবে। তাদের ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য। তিনি ওই দুজনের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
ওসির এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের মতে, মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অপরাধে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে উৎসাহিত হতে পারেন। এর মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের পথও তৈরি হতে পারে।
একটি উত্তর দিন