দিনাজপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুর শহর ও কোতোয়ালি থানা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
* নেতা আটক: গত ২৭ আগস্ট (বুধবার) রাতে রাজনৈতিক একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা শেখ বাদশাকে তাঁর নিজ বাসা থেকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
* থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ: আটক করার পরপরই শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনার জের ধরে ২৭ আগস্ট সকাল থেকেই কোতোয়ালি থানার সামনে প্রধান ফটকে বাস রেখে ব্যারিকেড দিয়ে পুরো এলাকা ঘেরাও করা হয়। এর পাশাপাশি দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় আঞ্চলিক মহাসড়কের দশমাইল ও রানীরবন্দরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে শ্রমিকরা অবরোধ তৈরি করেন।
* সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জ: বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে থানার প্রধান ফটকের সামনে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ত্রিমুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
* আহত ও মহাসড়ক বিচ্ছিন্ন: সংঘর্ষে অন্তত ৫ থেকে ৭ জন আহত হন (যার মধ্যে পুলিশ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিক রয়েছেন)। আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
* পরিবহন চলাচল বন্ধ: আটক শ্রমিক নেতার মুক্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় দিনাজপুরের দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত নেতার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
একটি উত্তর দিন