রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের নদী-খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশ ও নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৫৫টি খাল উদ্ধার, সীমানা নির্ধারণ এবং খালগুলোর দুই পাড়ে সবুজ বেষ্টনীসহ ওয়াকওয়ে (পথচারী চলাচলের পথ) নির্মাণের কাজ চলছে।
পরিকল্পনা ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলদারিত্ব, ময়লা-আবর্জনা ও পলি জমে ঢাকার খালগুলো নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। বর্ষা মৌসুমে নগরে সৃষ্টি হতো তীব্র জলাবদ্ধতা। এই পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে এবং নগরবাসীকে বিনোদনের সুযোগ করে দিতে খাল সংস্কারের এই সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খনন: খালগুলোর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পলি অপসারণ করে পানির ধারণক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
ওয়াকওয়ে ও সাইকেল লেন: পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে খালগুলোর দু’পাশে নান্দনিক ওয়াকওয়ে এবং কিছু অংশে সাইকেল লেন তৈরি করা হচ্ছে।
সবুজায়ন ও আলোকসজ্জা: ওয়াকওয়ের পাশে ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ এবং নগরবাসীর রাতের নিরাপত্তার জন্য বসানো হচ্ছে আধুনিক স্ট্রিট লাইট।
জলবদ্ধতা নিরসন: খালগুলো সংযুক্ত থাকবে প্রধান নদীগুলোর (বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা) সাথে, যা বর্ষাকালে পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সাহায্য করবে।
উভয় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার বড় একটি অংশ সমাধান হওয়ার পাশাপাশি এটি নগরবাসীর জন্য শরীরচর্চা ও প্রাতঃভ্রমণের চমৎকার স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে। সুন্দর, সচল ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার লক্ষ্যেই এই মেগা উদ্যোগ দ্রুত শেষ করার কাজ চলছে।
একটি উত্তর দিন