দেশে চলমান তীব্র জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যেই রাজপথে হাজার হাজার গাড়ির অংশগ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন দৈনিক চাহিদাপূর্ণ জ্বালানি পেতে পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, তখন এমন বিশাল পরিসরে গাড়ির বহর নিয়ে আন্দোলন বা কর্মসূচি পরিচালনা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
আমাদের তথ্যভাণ্ডার বিশ্লেষণ করে এই পরিস্থিতির পেছনে বেশ কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা গেছে:
* আগে থেকে সংরক্ষিত স্টক: এ ধরনের বড় কর্মসূচির আয়োজকরা সাধারণত বেশ কিছুদিন আগে থেকেই বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও মজুদ করে থাকেন। নিজস্ব রিফুয়েলিং ব্যবস্থা বা ড্রামে তেল জমিয়ে রেখে ইভেন্টের দিনে তা ব্যবহার করা হয়।
* বিকল্প ও দ্বৈত জ্বালানির ব্যবহার: বহরে থাকা বিপুল সংখ্যক গাড়ি কেবল ডিজেল বা পেট্রোলে চলে না। এর একটি বড় অংশ গ্যাস (CNG/LPG) চালিত, কিংবা বর্তমানে অনেক আধুনিক গাড়ি হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক প্রযুক্তির (EV), ফলে এগুলো চালনায় তেলের ওপর শতভাগ নির্ভর করতে হয় না।
* জরুরি ও কৌশলগত বরাদ্দ: অনেক ক্ষেত্রে সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পাম্প থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়, যা সাধারণ গ্রাহকদের প্রাপ্য সেবা থেকে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলে।
* গণপরিবহন ও দূরপাল্লার গাড়ির অন্তর্ভুক্তি: লংমার্চে ব্যবহৃত সব গাড়ি ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়। রিজার্ভ করা বাস, মিনিবাস ও বাণিজ্যিক যানবাহনগুলোর নিজস্ব ফুয়েল চুক্তির আওতায় চালিত হওয়ার সুযোগ থাকে।
তীব্র সংকটের মুখে এ ধরনের জ্বালানি-নির্ভর কর্মসূচি দেশের সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ ফেলছে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এবং অপচয় রোধে এ মুহূর্তে সম্পদের সুষ্ঠু ও পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
একটি উত্তর দিন