স্পিকারের কড়া মন্তব্য এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের ওপর আলোচনা বর্জনের জেরে জাতীয় সংসদে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। অধিবেশন কক্ষে ফিরে আসার মাত্র পনেরো মিনিটের মাথায় পুনরায় ওয়াকআউট করেছে প্রধান বিরোধীদল।
ঘটনার সূচনা হয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট পেশের সময়। নির্ধারিত সময়সূচি ও বাজেট বরাদ্দ নিয়ে বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে চাইলে স্পিকার তা নামঞ্জুর করেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলের সদস্যরা প্রথম দফায় কক্ষ ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে সংসদীয় হুইপ ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের মধ্যস্থতায় প্রধান বিরোধীদলীয় উপনেতা ও সহকর্মীরা পুনরায় অধিবেশনে ফিরে আসেন। তবে এর পরপরই প্রস্তাবিত নতুন বিলের ওপর তড়িঘড়ি আলোচনার বিষয় নিয়ে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
ঘটনার সারসংক্ষেপ:
প্রথম ওয়াকআউট: পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ না দেওয়া এবং স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি তুলে বিকেল ৪:১৫ মিনিটে প্রথম ওয়াকআউট।
অধিবেশনে প্রত্যাবর্তন: সরকারি দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর ৪:৪৫ মিনিটে কক্ষে ফেরেন বিরোধী সদস্যরা।
দ্বিতীয় ওয়াকআউট: বিল পাসের সময় মাত্র ৩ মিনিট বক্তব্য সীমিত করার প্রতিবাদে বিকেল ৫:০০টায় পুনরায় কক্ষ ত্যাগ।
বিরোধীদলীয় উপনেতা সংসদ চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, “বিরোধীদলের গঠনমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রুদ্ধ করা হচ্ছে। বিলের ত্রুটিগুলো তুলে ধরতে না দিয়ে তড়িঘড়ি করে তা পাস করার প্রতিবাদেই আমরা দ্বিতীয়বার সংসদ কক্ষ ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।”
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এই ঘটনাকে “রাজনৈতিক স্টান্টবাজি” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, সংসদীয় নিয়ম মেনেই সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে এবং বিরোধীদল মূল আলোচনা এড়াতেই বার বারবার ওয়াকআউট করছে।
বারংবার ওয়াকআউটের ঘটনায় সংসদ কক্ষে অধিবেশনের পরিবেশ বেশ থমথমে হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিরোধীদল ছাড়াই দিনের বাকি থাকা বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়।
একটি উত্তর দিন