রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকার একাধিক বিদেশি দূতাবাসে চিঠি ও ইমেইল পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং অন্যথায় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকার একাধিক কূটনৈতিক মিশনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামে বেনামী চিঠি ও ইমেইল বার্তা পাঠানো হয়। এসব বার্তায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে কূটনৈতিক এলাকা ও দূতাবাস ভবনে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
হুমকির পর সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়। সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ঘটনার মূল গণক ও নির্দেশদাতাকে চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডিজিটাল নজরদারি ও আইটি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় হুমকির উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যে ইমেইল ঠিকানা ও আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে বার্তাগুলো পাঠানো হয়েছে, সেগুলো ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এটি কোনো পেশাদার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাজ নাকি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে বা অর্থ হাতাতে স্থানীয় কোনো চক্রের প্রতারণা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই গুলশান-বনানী ও কূটনৈতিক পাড়ায় (ডিপ্লোমেটিক জোন) সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল এবং চেকপোস্টে তল্লাশি। গুরুত্বপূর্ণ দূতাবাসগুলোর সামনে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান জানিয়েছেন, “আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা প্রতিটি বার্তা ও তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করছি। খুব দ্রুতই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”
একটি উত্তর দিন