চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৬৬৮ বেল ফেব্রিকসহ (পোশাক তৈরির কাঁচামাল) ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি কনটেইনারের রহস্যজনক অন্তর্ধান ঘটেছে। কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ ও শুল্ক পরিশোধের পরও নির্ধারিত ইয়ার্ডে কনটেইনারটি না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
ঘটনার বিবরণ
শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ‘গোল্ড স্টার গার্মেন্টস’-এর জন্য চীন থেকে আমদানি করা ফেব্রিকভর্তি ৪০ ফুটের এই কনটেইনারটি আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে বন্দরে এসে পৌঁছায়। আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘এসআরএস সিন্ডিকেট’ কাস্টমসের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এবং বন্দরের প্রয়োজনীয় চার্জ পরিশোধ করে ডেলিভারি অর্ডার সংগ্রহ করে। তবে ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে অনুসন্ধান চালিয়েও কনটেইনারটির কোনো ভৌত অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ক্ষতির আশঙ্কা ও অভিযোগ
ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসআরএস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান। অভিযোগে বলা হয়:
পণ্যের মান ও মূল্য: ৬৬৮ বেল কাপড়ের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
উৎপাদনে বাধা: সময়মতো কাঁচামাল না পাওয়ায় কারখানাটিতে পোশাক উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে।
রপ্তানি ঝুঁকি: নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে বিদেশি ক্রেতার কাছে তৈরি পোশাক পাঠানো সম্ভব না হলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে প্রতিষ্ঠানটি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও অতীত প্রেক্ষাপট
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, কনটেইনার নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উচ্চ নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও জাল নথিপত্র ও সিস্টেমের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বন্দর ইয়ার্ড থেকে আমদানিকৃত কাপড়ের কনটেইনার উধাও হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের ভেতরের সার্বিক নিরাপত্তা ও ডিজিটাল কার্গো ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়ার ওপর পুনরায় বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিল।
একটি উত্তর দিন