কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার একটি রিসোর্টে কম্পিউটার ল্যাব বানিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণা (স্ক্যাম) চালানোর অভিযোগে চীন ও তাইওয়ানের ছয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ল্যাপটপ এবং বিশেষ ধরনের সাউন্ডপ্রুফ (শব্দনিরোধ) কক্ষের সন্ধান পাওয়া গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, তারা হোটেল ও রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে আড়ালে কৃত্রিম শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ, ভুয়া ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি, প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ জমা নেওয়া এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ বা আর্থিক স্ক্যাম পরিচালনা করছিলেন।
ঘটনার আদ্যোপান্ত ও পুলিশের অভিযান
* অভিযান ও সরঞ্জাম জব্দ: কক্সবাজারের হিমছড়ির ‘মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্ট’-এ সন্দেহজনক গতিবিধি টের পেয়ে গত ২৫ আগস্ট পুলিশ ও গোয়েন্দারা প্রথম অভিযান চালান। অভিযান চলাকালে জড়িতরা পালিয়ে গেলেও সেখানে ১,৯৩৮টি আইফোন, সাউন্ডপ্রুফ রুম এবং ৫০টি মনিটরসহ বিশাল এক কম্পিউটার ল্যাবের সন্ধান মেলে।
* চীনা দূতাবাস ও সিটিটিসির তদন্ত: ২৬ আগস্ট ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের ৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল রিসোর্টটি পরিদর্শন করে অপরাধের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন শেষে জানান, এরা ক্লোন ট্রেডিং ও ক্রিপ্টো/অনলাইন আর্থিক প্রতারণার আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
* আসামি গ্রেপ্তার ও মামলা: গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে ৫ জন চীনা ও ১ জন তাইওয়ানের নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় তাদের আদালতে পাঠালে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিশাল সিন্ডিকেটের উপস্থিতি
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, উখিয়া ও হিমছড়ির একাধিক রিসোর্টে আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করে এ ধরনের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন। মামলার এজাহারে পলাতক আসামিদের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। জব্দ করা ডিভাইসগুলোর ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের মূল নেটওয়ার্ক ও অর্থের লেনদেন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একটি উত্তর দিন