সম্প্রতি ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মো. শামীম হুসাইনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি, ‘ঘুষের হাট’ বসানো এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকার লেনদেনের যে অভিযোগ তুলে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানা গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব সংবাদের বিপরীতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্মারকযুক্ত ৪৫ পৃষ্ঠার সরকারি নথি, ব্যাংক চেকের অ্যাডভাইস ও রিসিভারি মামলার নথিপত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেসকল অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশ সিদ্ধান্ত, মূল্য নির্ধারণ বা ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের সময় মো. শামীম হুসাইন উক্ত পদে বা কর্মস্থলে দায়িত্বরত ছিলেন না।
অভিযোগ বনাম সরকারি নথির আসল চিত্র
যোগদানের আগের কাজের দায়ভার চাপানো:
ইনকিলাবের প্রতিবেদনে যেসব ক্ষতিপূরণের চেক ও অ্যাডভাইসকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির দাবি করা হয়েছে (যেগুলোর তারিখ ১৮/০৫/২০২৫ থেকে ১৬/০৪/২০২৬), তৎকালীন সময়ে এডিসি (এল.এ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন লিটুস লরেন্স চিরান এবং মো. বদরুদ্দোজা শুভ। মো. শামীম হুসাইন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) হিসেবে যোগদান করেন ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে। তার যোগদানের আগে অন্য কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত ও ছাড়কৃত অর্থের দায়ভার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ওপর চাপানো হয়েছে।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: ৫০ কোটি টাকার অলীক দাবি:
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ফেজ-৪ প্রকল্পের অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কেসে (০৭/২০২৫-২৬) সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও প্রত্যাশী সংস্থা যৌথভাবে একটি তদন্ত ও পুনঃযাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নথি অনুযায়ী, যে প্রক্রিয়াটি এখনও যৌথ খসড়া ও যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে—সেখানে ৫০ কোটি টাকা দুর্নীতির দাবিটি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও কাল্পনিক।
কক্সবাজার পানি শোধনাগার প্রকল্প (২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত):
কক্সবাজার পৌরসভার পানি শোধনাগার প্রকল্পের জমি ও জমির মূল্য (৩৬,৬৩,০৯,৯০৮ টাকা) তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৭ সালে (স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০৬৩.৪১.০০৩.১৭.১২৯৭)। অথচ মো. শামীম হুসাইন কক্সবাজারে এল.এ শাখায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারও প্রায় তিন বছর পর—২০২০ সালে। এছাড়া Mayor পরিবারের নামে পুরো ৩৬ কোটি টাকা হস্তান্তরের খবরটি মিথ্যা প্রমাণ করে সরকারি নথি নিশ্চিত করেছে যে, মেয়রের স্ত্রী ও শ্যালক বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে মাত্র ৭.১৪ কোটি টাকা পেয়েছেন এবং বাকি ২৯ কোটি টাকারও বেশি অর্থ অন্যান্য বৈধ মালিকদের দেওয়া হয়েছে।
পিবিআই কার্যালয় নির্মাণ:
ঝিলংজা মৌজায় পিবিআই কার্যালয় নির্মাণে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মো. শামীম হুসাইনের যোগদানের পূর্বেই গৃহীত হয়। পরবর্তীতে কক্সবাজারের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার)-এর নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের শক্তিশালী তদন্ত কমিটির (সুপারিশ তারিখ: ০৭/০৬/২০২০) ভিত্তিতে আইনানুগভাবে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।
মাতারবাড়ী প্রকল্প ও দুদক মামলার তথ্য সম্পূর্ণ মনগড়া:
সরকারি নথি অনুযায়ী, মো. শামীম হুসাইন কখনো মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ছিলেন না। সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য হলো তাকে ‘দুদকের এজাহারভুক্ত আসামি’ বলা হলেও বাস্তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে তার নামে কোনো নোটিশ বা মামলার অস্তিত্ব নেই।
আইনি পদক্ষেপ ও প্রতিবাদলিপি
মিডিয়া ট্রায়াল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মো. শামীম হুসাইন ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক বরাবর ৪৫ পৃষ্ঠার প্রামাণ্য নথি সংযুক্ত করে একটি ফরমাল প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, বস্তুনিষ্ঠ তথ্য যাচাই না করে কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ গণমাধ্যমের পেশাদারিত্বকে ক্ষুণ্ন করে। প্রকাশিত সরকারি দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে উক্ত মিথ্যা সংবাদের সংশোধনী প্রকাশ করার জোর দাবি উঠেছে।
একটি উত্তর দিন