হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল-বেরুনী মীর এই আদেশ দেন। এর আগে শুক্রবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে বিমানবন্দর থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
আদালতের কার্যক্রম শেষে প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর সময় পুলিশ সদস্যরা আখতারুজ্জামানকে নিরাপত্তার স্বার্থে হেলমেট পরানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি জোরপূর্বক তা খুলে ছুড়ে ফেলেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন:
“আরে আমি হেলমেট পরব না, আপনি জানিয়ে দেন! আমাকে অন্যায়ভাবে, অবৈধভাবে হেলমেট পরানো হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগের না! আমি হেলমেট পরব না! দরকার পড়লে এখানে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করব, কিন্তু হেলমেট পরব না, পরব না, পরব না!”
তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধীদের মতো হেলমেট পরা বর্তমানে আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে জোরপূর্বক এটি পরানোর প্রতিবাদ জানিয়ে পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাকে হাতকড়া পরান, ১০০ বার হাতকড়া পরান!”
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৮) অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে লাগেজ পেতে দেরি হয় এবং ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এতে কিছু যাত্রীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে পরিস্থিতির সামাল দিতে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। অভিযোগ রয়েছে, আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
এ ছাড়া আখতারুজ্জামানের সঙ্গীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান ওই নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি ও যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে মারার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, সাবেক এই সংসদ সদস্য ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
একটি উত্তর দিন