গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৩৬ জন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছে দুই শতাধিক শিশু, যাদের অনেকেরই এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। ক্রমাগত শিশু হত্যা, গুম ও অপহরণের এমন পরিসংখ্যানে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
উদ্ধার হওয়া শিশুদের বড় একটি অংশের শরীরে আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে যে, পারিবারিক কলহ, পূর্বশত্রুতা, মুক্তিপণ আদায় এবং যৌন নির্যাতনের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে এসব শিশুদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে।
হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়া অধিকাংশ শিশুই খেলাধুলার সময় অথবা বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার দ্রুত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও উদ্ধার তৎপরতা ধীরগতির হওয়ায় নিখোঁজ শিশুর পরিবারগুলোকে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
মানবাধিকার কর্মীদের মতে, শিশু নিরাপত্তায় সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় শিশু অধিকার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
একটি উত্তর দিন