তিন দশকেরও বেশি সময় আগে ধর্মীয় ও শিক্ষার প্রসারে মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য জমি দান করেছিলেন বাবা। সেই জমিতে দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কার্যক্রম চলে আসছে। অথচ এত বছর পর হঠাৎ করেই মরহুম দানকারীর সেই জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪৩ বছর আগে মাদ্রাসার নামে জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দান করা হয়। জমি হস্তান্তরের পর থেকেই সেখানে মাদ্রাসা ভবন নির্মিত হয় এবং এতদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তবে সম্প্রতি স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ভুয়া কাগজপত্র ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে মাদ্রাসার সীমানা প্রাচীর ভেঙে বা জমি দখলের নানামুখী অপচেষ্টা শুরু করেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি মাদ্রাসার দখলে থাকলেও একটি মহল বর্তমান জমির চড়াদামের সুযোগ নিয়ে এবং প্রতিষ্ঠাতার অবর্তমানে তা আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা করছে।
মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকরা জানান, “৪৩ বছর ধরে এই জমিতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করছে। হঠাৎ করে একটি পক্ষ এসে জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।”
এ ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতারক ও দখলদার চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই অবৈধ দখল মেনে নেওয়া হবে না।
Leave a Reply