গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার মূল উৎস জনগণ। তাদের প্রদান করা ভ্যাট ও ট্যাক্সের টাকায় একটি দেশের চালিকাশক্তি সচল থাকে। অথচ জনগণের সেই ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বা সমালোচনা যখন সরকারের কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী ও রাজনীতি বিশ্লেষক আবু হেনা রাজ্জাকী।
সম্প্রতি এক প্রতিক্রিয়ায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু হেনা রাজ্জাকী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার কোনো দাতা সংস্থা নয়, বরং জনগণের দেওয়া রাজস্বে দেশ পরিচালিত হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে জনগণের মতামত প্রকাশের পথ অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশ চালায়। সেই জনগণের কথা বা সমালোচনা যদি সরকারের সহ্য না হয়, তবে সম্মানজনক পথ হচ্ছে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া।”
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, একজন নাগরিকের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রে নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের অধিকার থাকা বাধ্যতামুলক। কিন্তু সম্প্রতি সরকার এবং সাধারণ জনগণের সম্পর্কের টানাপোড়েন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে রাজ্জাকীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী মতামত দমন করে বা জনগণকে তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রবণতা একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। অবিলম্বে জনগণের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার এবং তা না পারলে অনতিবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান এই আইনজীবী।
Leave a Reply