মোঃ হাসান মাহমুদ জয় স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মুড়িয়াহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় বর্তমানে তীব্র শিক্ষার্থী সংকটের মুখে পড়েছে। বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও সে তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অভিযোগ বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংকটকে কেন্দ্র করে একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, পর্যাপ্ত নিয়মিত শিক্ষার্থী না থাকায় পাশের একটি বেসরকারি বা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মুড়িয়াহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ দেওয়ানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীরা বছরজুড়ে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেও পরীক্ষার সময় এই বিদ্যালয়ের নামে ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশ নেয়। শুধু তাই নয়, প্রতি বছরই নিয়মিতভাবে এই অনিয়ম চলে আসছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই কেবল এর সত্যতা ও প্রক্রিয়া পরিষ্কার হতে পারে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানরা কেন অন্য প্রতিষ্ঠানে?
বিদ্যালয়টির বর্তমান দশার পেছনে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে আসছে, তা হলো—যে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিদিন পাঠদানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাদের নিজেদের সন্তানদের একটি বড় অংশ কেন এই বিদ্যালয়ে পড়ছে না? স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানরা এই বিদ্যালয়ে না পড়ে পার্শ্ববর্তী অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। শিক্ষকরাই যদি নিজেদের সন্তানদের জন্য নিজ কর্মস্থলকে নিরাপদ ও মানসম্মত মনে না করেন, তবে সাধারণ অভিভাবকরা কেন তাদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করাবেন সেই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়ের পাঠদান মান, পরিবেশ কিংবা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি নিয়েই মূলত এমন অনীহা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বাড়ির কাছের বিদ্যালয় ছেড়ে উপজেলা সদরে ছুটছে শিক্ষার্থীরা কাছেই বিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও আস্থার সংকট ও মানসম্মত শিক্ষার অভাবে এলাকার শিক্ষার্থীরা দূরের প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে। অনেকে প্রতিদিন কষ্ট করে নাগেশ্বরী উপজেলা সদরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করছে। স্থানীয়দের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেবল অবকাঠামো বা শিক্ষক থাকা যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন মানসম্মত পাঠদান, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং অভিভাবকদের আস্থা। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকায় একদিকে যেমন স্থানীয় শিক্ষার্থীরা দূরের স্কুলে ছুটছে, অন্যদিকে শূন্যতা ঢাকতে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি মুড়িয়াহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার্থী সংকট, অনিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন এবং ভুয়া বা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী দিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই পরিস্থিতি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের। কারণ, বাড়ির পাশে বিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তা কেবল শিক্ষার্থী সংকট নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের চরম আস্থার সংকটেরই ইঙ্গিত দেয়।
Leave a Reply