দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ভোটে ২৫৫টি ভোট পেয়ে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।
ভোটের হিসাব ও ফলাফল
জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন।
মোট যোগ্য ভোটার (সংসদ সদস্য): ৩৪৯ জন
প্র প্রদত্ত মোট ভোট: ৩৪৩টি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (বিএনপি): ২৫৫ ভোট
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (১১-দলীয় জোট): ৮৮ ভোট
শিক্ষকতা থেকে রাজনীতির শীর্ষমঞ্চ
রাজনীতিতে মির্জা ফখরুলের আগমন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে ১৯৭২ সালে সরকারি চাকরিতে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে অর্থনীতি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।
১৯৮৬ সালে শিক্ষকতার পেশা ত্যাগ করে পুরোপুরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তাঁর।
সংকটকালের কান্ডারি ও রাজপথের নেতৃত্ব
নব্বইয়ের দশকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ক্রমান্বয়ে দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে শীর্ষস্থানে উঠে আসেন। ২০০১ সালে সাংসদ ও পরবর্তীতে কৃষি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দলের নানা রাজনৈতিক সংকট, নেতৃত্বশূন্যতা ও কঠিন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও পরবর্তীকালে মহাসচিব হিসেবে রাজপথে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। একাধিকবার কারাবরণ ও রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হলেও অত্যন্ত সহনশীল ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে পরিগণিত হন তিনি।
রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়ার পূর্বে তিনি দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন। জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক এ নির্বাচনের পর আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করার কথা রয়েছে তাঁর।
Leave a Reply