এম এ বাছির রাজা,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বুধবার সকাল ৯টা। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানুষের স্রোত। ভোর থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ জড়ো হতে থাকেন। কারও কণ্ঠে হামদ-নাত, কারও কণ্ঠে তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকির। কেউ হেঁটে, কেউ আবার ট্রাক-পিকআপে করে যোগ দেন জুলুসে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়।
বেলা সাড়ে ১০টার দিকে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে উপজেলা পরিষদ চত্বর, মাধবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ফ্লাইওভারের নিচের এলাকা।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা দরবার শরীফের পীরজাদা সৈয়দ জুবায়ের কামাল ও পীরজাদা সৈয়দ শরিফুর রহমান শরীফের উদ্যোগে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে জুলুসটি বের হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাচারি এলাকা পর্যন্ত যায়। পরে সেখান থেকে ফিরে মাধবপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহান, মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল, মাধবপুর উপজেলার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা ইউনুছ আনসার, মাওলানা নূরুল মোস্তফাসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা ও নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন, আদর্শ, চরিত্র ও শিক্ষা অনুসরণ করেই শান্তি, মানবতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নবীজির প্রতি ভালোবাসা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.) মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ, অন্যায়-অবিচার ও বিভেদ পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার পথে চলার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাধবপুর শহর ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে। এতে মহাসড়কে যান চলাচলও ধীর হয়ে পড়ে।
Leave a Reply