কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ যুবলীগের স্থানীয় এক নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তির নাম মো. আল আমিন সৈকত (৪০)। তিনি ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ভৈরব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের টিনপট্টি/টিন বাজার এলাকায় গোপাল জিউর মন্দিরের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ:
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আল আমিন ভৈরব বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন এবং সেখানে ‘রিভারভিউ’ নামে তাঁর একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলযোগে রানীবাজার এলাকার ভাড়া বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বাসা সংলগ্ন নির্জন সড়কে পৌঁছালে ওলিতে উৎপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁর পথরোধ করে।
হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তাঁর মাথায় একাধিক মারাত্মক জখম হয় এবং পায়ের রগ কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর রাত ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্বজনদের বক্তব্য:
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতোমধ্যেই অভিযান শুরু করেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আল আমিনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একাধিক মামলা হয়েছিল এবং তিনি জামিনে ছিলেন। তবে রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি ব্যবসায়িক/পারিবারিক বিরোধের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
Leave a Reply