বিশেষ প্রতিনিধি:
সৌদি আরবে ফাস্টফুডের দোকানে আকর্ষণীয় চাকরির লোভ দেখিয়ে এক যুবককে পাচার ও নির্যাতন করা আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. সালমান হোসেনকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির মানবপাচার ইউনিট।
ঘটনার পটভূমি ও নির্যাতনের চিত্র
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ভালো কাজ ও প্রতিশ্রুতির কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই পাচারকারী চক্র। ২০২৫ সালের জুনে ভুক্তভোগীকে সৌদিতে পাঠানো হলেও কোনো চাকরি না দিয়ে উল্টো একটি গোপন ঘরে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে ‘আকামা’ (রেসিডেন্স পারমিট) বানিয়ে দেওয়ার বাহানায় বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে অতিরিক্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং দাবিকৃত অর্থের জন্য চালানো হয় অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন।
মরুভূমি থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন
নির্যাতনের মুখে ভুক্তভোগী যুবক একপর্যায়ে ওই বন্দীশালা থেকে পালিয়ে সৌদি আরবের মরুভূমি এলাকায় এক স্থানীয় ব্যক্তির কাছে আশ্রয় নেন। পর পর সৌদি পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গত ২২ জুলাই তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। দেশে ফেরার পর ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার থানায় ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন’-এ মামলা দায়ের করেন।
সিআইডির বক্তব্য ও মামলার অবস্থা
সিআইডির মিডিয়া উইং জানায়, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত সালমান হোসেনের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ভুক্তভোগীকে যে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো, সেটি সালমানেরই পরিচালনাধীন ছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে সিআইডি।
চক্রের দেশি-বিদেশি অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বাকি ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করতে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তিপত্র ও প্রলোভনে না পড়ে অনুমোদিত ও বৈধ মাধ্যম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Leave a Reply