বাংলাদেশের সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও অন্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিচার-পূর্ব আটক (Pre-trial detention) রাখার অবসান এবং কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch (HRW)।
সংস্থাটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
আটকের পরিসংখ্যান ও অভিযোগের অভাব: ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে শত শত ব্যক্তি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
প্রবীণ নেতাদের কারাবাস ও চিকিৎসা সংকট: সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বারবার জামিন সত্ত্বেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আটক ১৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তির কারো জামিন মঞ্জুর হয়নি। এদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার প্রায় ২২ মাস ধরে বিচার ছাড়াই চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় কারাগারে আটক আছেন।
হেফাজতে মৃত্যুর স্বাধীন তদন্ত দাবি: কারাগারে সঠিক চিকিৎসার অভাবে সাবেক এমপি রমেশ চন্দ্র সেন ও যুবলীগ নেতা এস এম জিয়াউল হক জিয়াসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অন্তত ১০ জন কার্যালয় পদধারী রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে মারা গেছেন।
এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া বিভাগের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী বিচার-পূর্ব আটক একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হওয়া উচিত। নির্দোষিতার অনুমান ও দ্রুত বিচারের অধিকার নিশ্চিত করে অবিলম্বে প্রমানহীন সকল আটক বাতিল করা প্রয়োজন।
Leave a Reply