হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখার বার্তা দিয়েছে কাতার। দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ নোটিশের মেয়াদ বাড়ানোর পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এডিসনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের কারণে গত এপ্রিলে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে প্রথম বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কাতারএনার্জি কয়েক দফায় ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ নোটিশের মেয়াদ বাড়িয়েছে।
ইতালির এনার্জি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, ডিসেম্বরের আগে কাতার থেকে তাদের নতুন কোনো এলএনজি কার্গো পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাতারএনার্জির ২০০৯ সালে করা ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বছরে ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করার কথা কাতারের।
এদিকে এশিয়ার বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানিকারকদের নভেম্বর পর্যন্ত কাতার থেকে সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
ব্যাপক কমেছে কাতারের এলএনজি রপ্তানি
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংকট ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে কাতারের এলএনজি রপ্তানিতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টে কাতার ৫০৯টি এলএনজি কার্গো পাঠিয়েছিল। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১৮টিতে। অর্থাৎ আগস্টের শেষ নাগাদ দেশটির এলএনজি রপ্তানি প্রায় ৯৬ শতাংশ কমেছে।
৩৫টি কার্গো পায়নি এডিসন
সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে কাতারের দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতাদের ওপরও। এডিসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাতারএনার্জি নতুন করে আরও ছয়টি এলএনজি চালান বাতিল করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির না পাওয়া মোট কার্গোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এডিসন বিকল্প উৎস হিসেবে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করছে।
বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারের সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী এই বিঘ্ন এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
একটি উত্তর দিন