ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী পুরাতন কালীবাড়ী মন্দিরে এক ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে মন্দিরের গ্রিল কেটে ও তালা ভেঙে কষ্টিপাথরের বিরল ও মূল্যবান ঐতিহ্যবাহী কালীমূর্তি এবং দেবীর গায়ে থাকা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
মন্দির কমিটির দেওয়া তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো পূজা-অর্চনা শেষে রাতে মন্দিরের ফটক ও প্রধান দরজা বন্ধ করে সেবায়েত ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঘুমাতে যান। শেষ রাতের দিকে সংঘবদ্ধ চোরের দল মন্দিরের নিরাপত্তাবেষ্টনী কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা গর্ভগৃহের তালা ভেঙে কষ্টিপাথরের ঐতিহাসিক কালীমূর্তি এবং দেবীর গায়ে শোভা পাওয়া সোনার মুকুট, চেইন, নূপুরসহ সমস্ত স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।
সকালে সেবায়েত মন্দিরে প্রাতঃপূজার জন্য এসে দরজার তালা ভাঙা ও গ্রিল কাটা অবস্থায় দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, বেদীতে কালীমূর্তি ও স্বর্ণালংকার নেই, পুরো স্থান তছনছ করা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মন্দিরে এমন সাহসিক ও দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় পূজারি ও সাধারণ ভক্তদের মনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ মন্দিরের চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, “আমরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে এবং আলামত সংগ্রহ করেছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই জড়িতদের সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে এবং চুরি যাওয়া কষ্টিপাথরের মূর্তি ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হবে।”
চুরির ঘটনার পর থেকেই মন্দির এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মন্দির পরিচালনা কমিটি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ।
Leave a Reply