বাংলাদেশে জরুরি ওষুধের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-কে ৩০.৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭ লাখ) মার্কিন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা (আইএফসি)। আইএফসি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাত কেন্দ্রিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
এই ঋণের মূল উদ্দেশ্য পপুলার ফার্মার মার্কিন ডলারের চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণ করা, যা মূলত অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই (ওষুধের মূল কাঁচামাল) আমদানিতে ব্যবহৃত হবে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত বেশিরভাগ ওষুধ স্থানীয়ভাবে তৈরি হলেও কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আইএফসির এই দীর্ঘমেয়াদি ডলার অর্থায়ন কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত হতে দেবে না, যা দেশের ১৭ কোটি মানুষের ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।
ঋণের মূল বিষয় ও প্রভাব:
অর্থায়নের মাত্রা: আইএফসির ৩০.৭ মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে আরও ৬৪.১ মিলিয়ন ডলারের বেসরকারি তহবিল যুক্ত হচ্ছে, যা বাংলাদেশে বেসরকারি খাত ভিত্তিক বিনিয়োগে বড় ভূমিকা রাখবে।
উৎপাদন ও কর্মসংস্থান: পপুলার ফার্মার হরমোন ডিভিশনের সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যয় হবে, যার মাধ্যমে ৩৩০টির মতো উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই বিভাগে নারী কর্মীর হার অন্তত ৬০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
লক্ষ্য ও বৈশ্বিক মানদণ্ড: এটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০৩০ সালের মধ্যে ১.৫ বিলিয়ন মানুষের কাছে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বৈশ্বিক লক্ষ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের ‘ন্যাশনাল হেলথ কমপ্যাক্ট ২০২৫’-এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আইএফসির সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ কোম্পানি হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। এতে আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়বে এবং হরমোন ও বিশেষায়িত ওষুধে নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।”
আইএফসির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ম্যানুফ্যাকচারিং, এগ্রিবিজনেস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের আঞ্চলিক শিল্প পরিচালক কার্স্টেন মুলার জানান, নিরবচ্ছিন্ন কাঁচামাল আমদানি স্বাস্থ্য খাতের সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অংশীদারিত্ব স্থানীয় ওষুধ শিল্পে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে।
Leave a Reply