ওসমান গণি, ইবি প্রতিনিধিঃ
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এবং গুম হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ( ইবি) দুই শিবির নেতা ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
রবিবার ( ৩০ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় বিশ্বিবিদ্যালয়ের থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা। মিছিলে- আমার ভাই গুম কেন – প্রশাসন জবাব চাই, গুম খুন এর ঠিকানা এই বাংলায় হবে না, ১৪ বছর পেরিয়ে গেল আর কত অপেক্ষা, শহীদ হলে লাশ দে-নয়তো আমার ভাইরে ফেরত দে, গুম হয়েছে আমার ভাই গুমকারীদের রক্ষা নাই’ স্লোগান দেন নেতা কর্মীরা।
মিছিলে ইবি শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সভাপতি ইমরান বিশ্বাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “সরকারকে দ্রুত গুম হওয়া ১৫১ জন ভাইয়ের সন্ধান দিতে হবে। গুমে জড়িত সকল দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।যদি কেউ গুম-খুনের রাজনীতি বেছে নিতে চায় তাহলে পরিণতি
হাসিনার চেয়েও ভয়ানক হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলার হুশিয়ারী দেন তিনি।
মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ – উপাচার্য অধ্যাপক ড.এমতাজ হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করে তারা। এসময় পূর্বে এ বিষয়ে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে ও দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান নেতাকর্মীরা।
উলেখ্য, ২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় যান মুকাদ্দাস। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ও তার বন্ধু ওয়ালিউল্লাহ রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে কুষ্টিয়াগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসের সুপারভাইজারের বরাতে স্বজনেরা জানান, বাসটি দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৮ থেকে ১০ জন লোক বাসে উঠে মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে নামিয়ে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply