যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান আলী মোহাম্মাদি এ সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ডেস্ট্রয়ারে হামলা চালাবে এবং সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। এ ধরনের হামলা ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরই ইরানি এই কমান্ডার এমন মন্তব্য করেন।
মোহাম্মাদি দাবি করেন, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে চলাচলকারী সব জাহাজ আইআরজিসি নৌবাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে এমন দাবিও তিনি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠার দাবি করলেও তা প্রত্যাখ্যান করে মোহাম্মাদি বলেন, ওয়াশিংটন সত্যিই যদি জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাকে, তাহলে সেখানে তাদের একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো উচিত।
এর আগে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ নামে চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মোহাম্মাদি প্রশ্ন তোলেন, ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালিকে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন মনে করেন, তাহলে সেখানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা অন্যান্য জাহাজ দেখা যাচ্ছে না কেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেন এই আইআরজিসি কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আলোকে বাহিনী নতুন কৌশল, সরঞ্জাম ও পরিচালন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।
মোহাম্মাদি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের ফলে এ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক শক্তির উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং পারস্য উপসাগরকে বিদেশি আধিপত্য থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত হওয়া এবং আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি ও রাডার স্থাপনায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে নজরদারির ওপর আগের তুলনায় বেশি নির্ভর করছে।
ইরানি এই কমান্ডার বলেন, অতীতের সংঘাতগুলো থেকে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত শক্তিগুলোকে এর জন্য বড় ধরনের মূল্য দিতে হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে এই জলপথকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
Leave a Reply