রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও দেশ, জনগণ ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদলসহ সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। একই সাথে বিরোধী দলকে সবকিছুর অন্ধ বিরোধিতা না করে যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাহদী আমিনের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো:
* জাতীয় স্বার্থে একতা: রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবাইকে একই জায়গায় থাকতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বৃহত্তর একতা তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গায় আমাদের আবার ফিরে যেতে হবে।
* গঠনমূলক সমালোচনা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের সমালোচনা থাকবেই, তবে সেই সমালোচনা অবশ্যই যুক্তিভিত্তিক ও গঠনমূলক হতে হবে। মিথ্যা প্রচারণা কিংবা ব্যক্তিগত চরিত্রহনন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিরত থাকতে হবে।
* বিরোধী দলের ভূমিকা: বিরোধী দলকে উপলব্ধি করতে হবে যে শুধু বিরোধিতার খাতিরে সবকিছুর বিরোধিতা করা কাম্য নয়।
* জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা: গণঅভ্যুত্থানের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল মানবাধিকার ও বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তাই বর্তমান সরকার জনগণের কাছে শতভাগ দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
* অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন: টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে নীতি নির্ধারণেও সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, উক্ত আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ও গঠনমূলক আচরণের ওপর জোর দেন।
Leave a Reply