গত তিন বছরে (জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৬) দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। অর্থনৈতিক বৈশ্বিক মন্দা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার কারণে অনেক কারখানা মালিক ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব কারখানার অধিকাংশ মাঝারি ও ক্ষুদ্র তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের।
কারখানা বন্ধের পেছনে প্রধান কারণসমূহ:
* আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা হ্রাস: বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরো ও মার্কিন ডলারে ক্রয়ক্ষমতা কমায় পশ্চিমা ক্রেতারা ক্রয়াদেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে।
* উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি: গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি কাঁচামালের পরিবহন খরচ বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
* উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া: আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং বড় কারখানাগুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দিতায় টিকতে না পেরে ক্ষুদ্র কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংসদে মন্ত্রী জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকার ও তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন (বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ) যৌথভাবে কাজ করছে। একই সাথে এই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং রফতানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিশেষ ঋণ সহায়তা, কর ছাড় এবং নতুন রফতানি বাজার অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের এই মন্দা কাটিয়ে উঠতে সরকার দ্রুতই খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে বসে সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
Leave a Reply