রাজধানীতে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক জানিয়েছেন, ঘটনাটি চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়; বরং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলা হয়েছে।
রোববার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাজমুল হক বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের মধ্যেই সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটি হামলার শিকার হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, হামলাকারীরা স্টুডিওটি সালমান মুক্তাদিরের—এ বিষয়টি জানত কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সালমানের স্টুডিও হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল না। দুই পক্ষের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যে স্টুডিওটি পড়ে যাওয়ায় সেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
নাজমুল হক আরও জানান, ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে একদল লোক ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান।
তবে সালমানের দাবি, তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় সালমান ঢাকার বাইরে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঢাকায় ফিরে তিনি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওতে যান। পরে ফেসবুক লাইভে এসে স্টুডিওর ভাঙচুরের চিত্র তুলে ধরেন এবং ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্টুডিওতে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, হামলার সময় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক সেখানে ঢুকে পড়ে। তাদের কয়েকজনের হাতে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তিনি দাবি করেন। আতঙ্কে কর্মীরা শৌচাগারে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে কয়েকজনের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো কর্মী গুরুতর আহত হননি বলে জানা গেছে।
সালমান জানান, ঘটনার দিন তার ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে শেষ শুটিং হওয়ার কথা ছিল। শুটিং শুরুর কিছুক্ষণ আগেই হামলা চালানো হয়। এতে স্টুডিওর অবকাঠামো ও বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে সালমান বলেন, স্টুডিওর সিস্টেমে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ক্লায়েন্টের গুরুত্বপূর্ণ শুটিং ফুটেজ ও কাজ সংরক্ষিত ছিল। হামলার পর সেসবের বড় অংশ নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মোট আর্থিক ক্ষতির হিসাব করা সম্ভব হয়নি।
সালমান আরও জানান, স্টুডিওটি গড়ে তুলতে তার স্ত্রী দীর্ঘদিন কাজের তদারকি করেছেন। সহকর্মীরাও রাত জেগে স্টুডিও পাহারা দিয়েছেন। হামলার পর কর্মীদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেলেও তাদের সান্ত্বনা দিয়ে দ্রুত আবার কাজ শুরু করার কথা বলেন তিনি।
ঘটনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করার প্রস্তুতির কথাও জানান সালমান মুক্তাদির। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে হামলার কারণ নিয়ে সালমানের অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। সালমান ঘটনাটিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দায়ী করলেও পুলিশ বলছে, এটি মূলত জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে।
Leave a Reply