ঢাকার আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের সুবন্দি এলাকায় সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের মাটি রাতের আঁধারে বাইরে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অধিবাসীরা একাধিক মাটিবাহী ট্রাক আটকে চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও মাটি কোথায় ও কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার কোনো স্পষ্ট জবাব পায়নি।
অভিযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিনে কাজের পাশাপাশি রাতের আঁধারে মাটি উত্তোলন করে ট্রাকে করে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি খাস পুকুর সংস্কারের মাটি এভাবে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে কয়েকটি ট্রাক স্থানীয়রা আটক করার পর আলোড় সৃষ্টি হলে বিষয়টি সাভার উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় থানা পুলিশকে জানানো হয়।
প্রকল্পের পটভূমি ও অর্থায়ন
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট (BCCT)’-এর অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
* প্রকল্পের নাম: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ঢাকা মহানগরী ও উপজেলা এলাকার ইজারাবিহীন খাস পুকুর ও জলাশয়সমূহের সংস্কার, উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম পর্যায়)।
* প্যাকেজ নং: CCTF/DHK/ASH/U/W#05 (ধামসোনা ইউনিয়নের বরকতুল্লাহ খান বাড়ী পুকুর পুনঃখনন)।
* বাস্তবায়নকারী সংস্থা: জেলা প্রশাসন, ঢাকা।
* ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান: মেসার্স হাজী শরীয়তুল্লাহ ট্রেডার্স, বিসিক, মাদারীপুর।
* আর্থিক বিবরণ: প্রাক্কলিত মূল্য ১১,৪৫,৪৬৮ টাকা; চুক্তিমূল্য ১০,৮৮,৩৮০ টাকা।
* কার্যাদেশের তারিখ: ১২ নভেম্বর ২০২৫।
নথিতে গুরুতর ভুল ও সময়সীমার অসঙ্গতি
প্রকল্পের প্রশাসনিক নথিতে বাস্তবায়নকাল মে ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত উল্লেখ করা হলেও ঠিকাদারি কাজের সময়সীমা ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ‘৩১ জুন ২০২৭’ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ইংরেজি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জুন মাস ৩০ দিনে হওয়ায় ‘৩১ জুন’ তারিখটি একটি স্পষ্ট প্রশাসনিক ভুল ও অসঙ্গতি প্রকাশ করে।
প্রশাসনের বক্তব্য
রাতের আঁধারে মাটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এবং সরকারি নথির ভুলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন নজর দিয়েছে। আশুলিয়া থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) এবং সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, মাটি পাচারের অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply