অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে বিক্রি হওয়া স্থাবর সম্পত্তির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিলামে কেনা স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতার ওপর এই ধরনের ভ্যাট আরোপের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল ও সম্পূরক রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করে এ রায় দেন।
ঘটনার পটভূমি
মামলার নথি থেকে জানা যায়, এক ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৩(১) ধারার অধীনে ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তোলা হয়।
নিলামে আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ ২৪ কোটি টাকা দর হেঁকে সম্পত্তিটি কিনে নেন এবং আদালতের অনুমোদন পাওয়ার পর সম্পূর্ণ অর্থ জমা দেন। তবে সম্পূর্ণ অর্থ জমা দেওয়া সত্ত্বেও অর্থঋণ আদালত নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও স্ট্যাম্প ডিউটি জমা দেওয়ার আদেশ দেন। উক্ত আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়
চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানান:
* উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালত যে আদেশ দিয়েছিল, তা আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত।
* জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের (এসআরও) যে অংশে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, তা আইনগত কার্যকারিতাহীন ও এখতিয়ারবহির্ভূত।
* সংসদ কোনো আইন দ্বারা কোনো সম্পত্তিকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিলে, প্রজ্ঞাপন বা অধস্তন আইন দিয়ে নতুন করে কর আরোপ করা যায় না।
আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে কেনা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫% ভ্যাট পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না, যা ভবিষ্যৎ বিচারিক নিলাম প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে কাজ করবে।
Leave a Reply