বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর পুনর্বহাল হতে না হতেই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে ফের চাঁদাবাজি ও অপকর্মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন—কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লা। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে পূর্বে বহিষ্কৃত হলেও সম্প্রতি দল তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে পদে পুনর্বহাল করে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, অভিযুক্ত দুই নেতা সরকারি খালের জায়গা অবৈধভাবে বাঁশ ও বাঁধ দিয়ে আটকে নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এতে প্রায় ২০ বিঘা পতিত জমি ও সরকারি জলাশয় ঘেরাও করে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি এভাবে দখল করার বিষয়টি স্বীকার করে সুজন মোল্লা জানান, খালের পাশে তাদের জমি থাকায় মাছ চাষের সুবিধার জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছে, তবে সরকারি খালের মুখ বন্ধ করা ঠিক হয়নি।
তাছাড়া, ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশ পরিচয়ে রিফাত বিশ্বাস নামের এক স্থানীয় যুবককে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি ও সমালোচনার সৃষ্টি করলে বাধ্য হয়ে আদায়কৃত টাকা রিফাতের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
ডিবি পরিচয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সুজন ও নাজমুল মোল্লা দাবি করেন, উক্ত যুবককে মাদকসহ আটক করে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে আপস-মীমাংসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
পুনর্বহালের পরপরই যুবদলের শীর্ষ পদধারী এসব নেতাদের এমন অপকর্মে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা এদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মান্নান শেখ জানিয়েছেন, সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দলীয় ফোরামে আলোচনা ও তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একটি উত্তর দিন