ঐতিহাসিকভাবে ঔপনিবেশিক এবং জমিদারি আমলে উচ্চবিত্ত বা অভিজাত পরিবারের সন্তানরাই মূলত আইন শিক্ষা ও বিচার বিভাগে প্রাধান্য পেতেন। তবে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (যেমন- বিসিএস Judicial Service) মাধ্যমেই যে কোনো নাগরিকের জন্য বিচারক হওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বিচার পদে যোগদানের কারণ ও বেতন ব্যবস্থা
সামাজিক মর্যাদা ও দায়বদ্ধতা: বিচারিক সেবা কেবল একটি চাকরি বা আয়ের মাধ্যম নয়; এটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরম দায়িত্ব।
যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ: নিম্ন বা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে এ পেশায় আসছেন।
বেতন ও সুবিধা: যদিও বেসরকারি খাতের অনেক পেশার তুলনায় বিচারকদের আর্থিক সুবিধা কম হতে পারে, তবুও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বেতন, আবাসন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সুবিধা প্রদান করা হয়।
স্বল্প বেতন ও দুর্নীতির প্রশ্ন
বেতন কম হওয়ায় রায় বিক্রি নয়: বেতন কম হওয়া কখনোই দুর্নীতি বা ‘রায় বিক্রি’ করার অজুহাত হতে পারে না। বিচারকের আসন একটি পবিত্র আমানত।
আইনগত ও নৈতিক অপরাধ: উৎকোচ গ্রহণ বা রায় বিক্রি করা গুরুতর অপরাধ, যা বিচারিক নীতিশাস্ত্র (Judicial Ethics) এবং দেশের প্রচলিত আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
স্বাধীন বিচার বিভাগ: বিচারকদের কাজের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা হয়েছে এবং কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও শাস্তির বিধান রয়েছে।
বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার সংস্কার, স্বাধীন বার অ্যাসোসিয়েশন এবং বিচারকদের উপযুক্ত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে Barrister Shahriar Kabir Video-এ পেশাগত আলোচনা রয়েছে। বেতন পর্যাপ্ত না হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে তা বৃদ্ধির দাবি তোলা যেতে পারে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই অনৈতিক পথ অবলম্বন গ্রহণযোগ্য নয়।
Leave a Reply