ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ এবং ট্রাফিক পুলিশের কথিত হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন অটোরিকশা শ্রমিকরা।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, অটোরিকশা চালিয়ে হাজার হাজার চালক তাদের পরিবার নিয়ে জীবনধারণ করছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই অনেক গ্যারেজের বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে চালকরা গাড়ি চার্জ দিতে না পেরে চরম জীবিকা সংকটে পড়ছেন।
এর পাশাপাশি রাস্তায় চলাচলের সময় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে অহেতুক মামলা, গাড়ি সেজ (আটক) করা এবং হয়রানির অভিযোগ তোলেন তারা। শ্রমিকদের দাবি, নীতিমালার অভাবকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর অসাধু পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করছে।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে শ্রমিক নেতারা সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন:
বৈধ বিদ্যুৎ লাইন কাটার অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা: নীতিমালা অনুযায়ী চার্জিং স্টেশনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা।
ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধ: রাস্তায় অহেতুক মামলা দেওয়া ও গাড়ি আটক রাখা বন্ধ করা।
লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট প্রদান: ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করে সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বৈধ লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট প্রদান করা।
নির্ধারিত রুট নির্ধারণ: মহাসড়ক ব্যতীত শহরের ভেতরে অটোরিকশা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট তৈরি করা।
শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ: অটোরিকশা চালকদের ওপর যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় জেলা প্রশাসক/সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে একটি স্মারকপ্রাপত্র প্রদান করে। শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে তারা পরবর্তীতে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি ও ধর্মঘটের ডাক দিতে বাধ্য হবেন।
Leave a Reply