স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে। ব্যাচমেটের এমন অকালপ্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক হৃদয়স্পর্শী ও আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে (গত বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে অস্ত্র লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যান উপসচিব আশরাফুল আফসার। সেখানে কাজের ফাঁকে দীর্ঘ সময় কাটে দুই ব্যাচমেটের। একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় পদোন্নতি না পাওয়ার সীমাহীন অব্যক্ত কষ্টের কথা তুলে ধরেন আশরাফুল আফসার। ডিসি ফরিদা খানম তাকে আশ্বস্ত করে পরবর্তী রিভিউতে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফরিদা খানম জানান, সেদিন ঝুম বৃষ্টির মধ্যে আশরাফুল আফসারের সম্মানে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়। খাবার টেবিলে ডায়াবেটিসের কারণে খুব অল্প খেয়েছিলেন আশরাফুল। ফরিদা খানম যখন তাকে মিষ্টি খেতে অনুরোধ করেন, তখন তিনি মৃদু হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, “আপা, অনেক দিন ধরে ডায়াবেটিস, হিসেব করে চলতে হয়… জয়েন্ট সেক্রেটারি হতে হবে না!”
সহকর্মীর বিনয় ও শিষ্টাচারের কথা স্মরণ করে ডিসি ফরিদা খানম লেখেন, অফিসে অবস্থানকালে কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এলে ডিসির পাশাপাশি আশরাফুল আফসারও বারবার উঠে দাঁড়াচ্ছিলেন। ব্যাচমেট হওয়া সত্ত্বেও এমন করার কারণ জানতে চাইলে তিনি সরল হেসে বলেছিলেন, “আপা, এটা চেয়ারের রেস্পেক্ট।”
বিকেল চারটার দিকে অফিস ছেড়ে যাওয়ার সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে একটি উপহার প্রদান করা হয়, যাতে দুটি চায়ের কাপ ছিল। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে আশরাফুল আফসার বার্তা পাঠিয়ে জানান, উপহারটি তার স্ত্রী ও সন্তানরা ভীষণ পছন্দ করেছে এবং তিনি ডিসির আস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রাখবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে এই তাজা স্মৃতিগুলো তুলে ধরে ফরিদা খানম গভীর আক্ষেপের সঙ্গে লেখেন, “ওহ্ সৃষ্টিকর্তা! এই কি তোমার সৃষ্টির রহস্য! এই কি আপনার চলে যাওয়ার বয়স, প্রিয় ভাইটা আমার! আফসার, আজকে থেকে আপনি ওপারে অপেক্ষায় থাকবেন দিন, মাস, বছর, যুগ যুগান্তর। আমরাও আসবো! আবারও দেখা হবে কোনো এক ধূসর মুহূর্তে।”
উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারের আকস্মিক এই প্রয়াণে প্রশাসন ক্যাডারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ডিসি ফরিদা খানম মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
Leave a Reply