চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অতীতে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে এবং অনেক সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছে। এখন পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সংশোধন করে নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। পুলিশকে জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের বিষয়ে গোয়েন্দা সক্ষমতা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারত্ব ও জনগণের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ বাহিনীতে ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। যারা ভালো কাজ করবেন এবং দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে দায়িত্বে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা অপরাধে জড়িত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু বিভাগীয় শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; আইন অনুযায়ী মামলা ও বিচারও হবে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন রাজা-বাদশাহ নয়, ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। কোনো কর্মকর্তা এমন আচরণ করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক বলে মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের অনিয়ম বা এমন কর্মকাণ্ডকেও প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ভুলত্রুটি হলেও কোনো সদস্য যদি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে একটি পৃথক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে এ ইউনিট গঠন করা হবে। ঢাকার সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও এর শাখা থাকবে।
আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক ল্যাব এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা ধাপে ধাপে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার মতে, বর্তমানে অপরাধের একটি বড় অংশ সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীর জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।
এ ছাড়া পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রোপলিটন ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধাও উন্নত করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের সামনে এখন নিজেদের সংশোধন করে জনগণের আস্থা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগেই সেই পরিবর্তন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দৃশ্যমান করতে হবে।
Leave a Reply