নিজের রান্নার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একসময় আত্মমর্যাদার সাথে জীবিকা নির্বাহ করতেন নার্গিস আক্তার লিজ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করে উপার্জিত আয়েই চলত তাঁর সংসার। কিন্তু প্রায় নয় মাস আগে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের জটিলতায় কেটে ফেলতে হয় তাঁর একটি পা। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজ হারিয়ে হঠাৎ করেই থমকে যায় তাঁর স্বাভাবিক জীবন।
স্বামী ও সন্তানহীন নার্গিসের চিকিৎসার খরচ চালানো তো দূরের কথা, দৈনন্দিন জীবন ধারণই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। উত্তর বাড্ডার একটি অন্ধকার ঘরে একাকী ও নিভৃতে অনিশ্চিত দিন কাটছিল এই নারীর।
নার্গিসের এই চরম অসহায়ত্বের খবর জানতে পেরে দ্রুত মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিস আক্তার লিজের হাতে তাৎক্ষণিক সহায়তার অংশ হিসেবে একটি হুইলচেয়ার ও নগদ আর্থিক অনুদান তুলে দেন জেলা প্রশাসক।
তবে কেবল সাময়িক চিকিৎসাসংক্রান্ত ও চলাচলের সুবিধাই শেষ নয়; নার্গিসকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তাঁকে আর যেন কারো ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়, সেজন্য খুব শিগগিরই তাঁর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের একটি মানবিক দায়িত্ব। নার্গিসকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, তাঁকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি যেন নিজের আয় ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”
হুইলচেয়ার ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগের আশ্বাসে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন নার্গিস। জেলা প্রশাসনের এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ কেবল একটি অনুদানের গল্প নয়, বরং এক পা হারানো অসহায় একজন মানুষকে পুনরায় নিজের পায়ে দাঁড় করানোর অনন্য দৃষ্টান্ত।
Leave a Reply