পবিত্র মসজিদের অজুখানায় তোশক ও ভেতরের ইবাদতের জায়গায় আরামদায়ক চেয়ার-সোফা বসিয়ে দলীয় ও নির্বাচনী সভা পরিচালনা করার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। পবিত্র স্থানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন আয়োজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মুসুল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাজীপুর উপজেলার একটি স্থানীয় মসজিদে সাম্প্রতিক সময়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। দেখা যায়, সাধারণত যেখানে সাধারণ মুসুল্লিরা মেঝেতে বসে নামাজ আদায় ও ইবাদত-বন্দেগি করেন, সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের জন্য দামি সোফা ও তোশক দিয়ে বিশেষ আসনের ব্যবস্থা করা হয়। একই সাথে মসজিদের নির্ধারিত স্থানে অন্যান্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জন্য আনা হয় বিপুল সংখ্যক প্লাস্টিকের চেয়ার।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সভার দৃশ্যগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মসজিদ হলো আল্লাহ তাআলার ঘর এবং সব মানুষের জন্য সমতার স্থান। সেখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা সংসদ সদস্যের জন্য এমন রাজকীয় বা বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাপনা করা ধর্মীয় আদব ও পবিত্রতার চরম লঙ্ঘন।”
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আলেম-ওলামারাও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পবিত্র স্থানকে রাজনৈতিক প্রভাব জাহির করার স্থান বানানো অনুচিত। যেকোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখে সভা করা বা সাধারণ মানুষের মতো বসা উচিত ছিল।
তবে সংসদ সদস্যের অনুসারীদের দাবি, নির্ধারিত স্থান ছোট হওয়া এবং স্থানভাবের কারণে সাময়িকভাবে এ আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁদের পক্ষ থেকে কাউকে ছোট করা বা ধর্মীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন চলছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ভবিষ্যতে যেকোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।
একটি উত্তর দিন