নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
কংক্রিটের ইট-পাথরে বন্দি রাজধানী ঢাকায় দিন দিন কমছে সবুজের পরিসর, বিপন্ন হচ্ছে বুনো পাখি ও প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসন। নগরজীবনের এই শুষ্ক বাস্তবতায় জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রকৃতির সান্নিধ্য ফিরিয়ে আনতে ঢাকা জেলা প্রশাসন এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসনের ভবনের ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ ছাদ বাগান ‘আকাশ নীড়’, যা একাধারে প্রকৃতির স্পর্শ এবং পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘আকাশ নীড়’-এর উদ্বোধনী ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো: মনিরুজ্জামান মিঞা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা অংশ নেন।
এক নজরে ‘আকাশ নীড়’
মোট গাছের সংখ্যা: ৫৮ প্রজাতির ৪১৮টি গাছ।
ফুলের গাছ: ৩০ প্রজাতির ২২৯টি গাছ (পরাগায়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য)।
ফলের গাছ: ১৪ প্রজাতির ৪১টি গাছ (পাখিদের প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস হিসেবে)।
শোভাবর্ধনকারী গাছ: ১১ প্রজাতির ৪৪টি অর্নামেন্টাল প্লান্ট।
পাখি ও প্রাণীদের আয়োজন: পদ্ম ও শাপলা খচিত বিশেষ জলাধার, বার্ডস বাথ, বাঁশের কৃত্রিম ঝোপঝাড়, পাখির ঝুলন্ত বাসা এবং বড় ক্যানোপি যুক্ত গাছের ছায়া। এছাড়া স্থানীয় কাঠবিড়ালী, বানর ও খরগোশের জন্য রাখা হয়েছে নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা।
নগরবাসীর বিশ্রামস্থল: নাগরিক ক্লান্তি দূর করতে বাগানে রাখা হয়েছে কাঠের চেয়ার, নান্দনিক ছাতা ও বিশ্রামাগার।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “ব্যস্ত নগরীতে পাখির কলকাকলি আর বিশুদ্ধ বাতাস আজ দুর্লভ। তবে সামান্য ভালোবাসা ও সচেতনতা দিয়ে কংক্রিটের ওপরেও প্রকৃতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ‘আকাশ নীড়’ কেবল একটি বাগান নয়, এটি নগর পরিবেশ পুনরুজ্জীবনের এক অর্থবহ উদ্যোগ। ঢাকার প্রতিটি ভবনের ছাদ যদি এভাবে সবুজ হয়ে ওঠে, তবে এই শহর আবার প্রাণবন্ত হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো: মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, “দ্রুত নগরায়ণের ফলে আমরা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হারাচ্ছি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি ভবনে এমন ছাদ বাগান তৈরি করা গেলে সামগ্রিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসবে। এটি শিশু-কিশোরদের প্রকৃতিপ্রেমী হতে উৎসাহিত করবে।”
ঢাকা জেলা প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, ‘আকাশ নীড়’ কেবল একটি ভবনের ছাদে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি একটি চেতনা হিসেবে পুরো ঢাকায় ছড়িয়ে পড়বে এবং শত শত ভবনের ছাদ পাখিদের নিরাপদ ঠিকানা ও সবুজের নতুন বলয়ে পরিণত হবে।
Leave a Reply