বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দেশের মানুষের চলমান ভোগান্তি দ্রুত কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের (১৫ দিন) মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী দেশের সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল বিষয়সমূহ:
* জনভোগান্তিতে সমবেদনা: দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে সাধারণ জনগণ ও শিল্পকারখানার সাময়িক কষ্টে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সত্য লুকিয়ে না রেখে মূল সংকট নিরসনে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে।
* সরবরাহ ব্যবস্থার অগ্রগতি: বর্তমানে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৮৮ শতাংশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাকি ১২ শতাংশ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
* বৈশ্বিক ও কারিগরি সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়েকটি ইউনিটে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলার কারণে উৎপাদনে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
* বিকল্প উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: সংকট উত্তরণে অল্টারনেটিভ সোর্স থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইস্ট অ্যান্ড রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে দেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে নতুন এলএনজি ও জ্বালানি কার্গো দেশে পৌঁছালে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকেই আবাসিক ও শিল্পকারখানা—উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।
Leave a Reply