আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে একাধিক পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রমে ভয়াবহ ধস নেমেছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আবার কোথাও উৎপাদন সক্ষমতা ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এই সংকট অব্যাহত থাকলে বিপুল আর্থিক লোকসান সামলাতে বড় ধরনের শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শঙ্কা প্রকাশ করছেন কারখানা মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাসচালিত বিভিন্ন ওয়াশিং, ডাইং, ড্রাই প্রসেস এবং টেক্সটাইল ইউনিটগুলোর মেশিন বন্ধ পড়ে রয়েছে। ফ্যাশন গ্লোব গ্রুপের এ আর ওয়েট প্রসেসিং লিমিটেড এবং পাকিজা গ্রুপের একাধিক কারখানাসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংকটের চিত্র ও ক্ষতির পরিমাণ:
গ্যাসের স্বল্প চাপ: কারখানার চাকা সচল রাখতে যেখানে ন্যূনতম ১০ পিএসআই (PSI) চাপের প্রয়োজন, সেখানে শিল্প সংযোগগুলোতে মিটারের চাপ মিলছে শূন্য থেকে সর্বোচ্চ ১-২.৫ পিএসআই।
বিকল্প জ্বালানির বাড়তি খরচ: পরিস্থিতি সামাল দিতে বাইর থেকে সিএনজি এনে ও বিকল্প উপায়ে জেনারেটর চালিয়ে কাজ সরানোর চেষ্টা করা হলেও প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত প্রায় ৩০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় একলাফে ১০-১২ শতাংশ বেড়ে গেছে।
বিপুল লোকসান: কারখানা ভেদে প্রতিদিন কোটি টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের (Shipment Deadline) মধ্যে পোশাক সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে উঠছে।
ছাঁটাইয়ের অশনিসংকেত:
কারখানা কর্তৃপক্ষের মতে, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় বায়ারের রপ্তানি আদেশ বাতিল বা পেনাল্টি গুনতে হতে পারে। এমনিতেই কাজ না থাকায় শ্রমিকদের অলস বসে সময় কাটাতে হচ্ছে, যা কারখানাগুলোর পরিচালনা ব্যয় অসম্ভব মাত্রায় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এভাবে অব্যাহত থাকলে টিকে থাকার স্বার্থে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ জনবল বা শ্রমিক ছাঁটাই করা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।
এদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না করা হলে পুরো শিল্পাঞ্চলের রপ্তানি খাত মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন শিল্প মালিকরা।
একটি উত্তর দিন