কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার বিচার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন।
আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে নিহত অপ্রতিমের খুনিদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। টানা অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং গণপরিবহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসন দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে দাঁড়ান।
কী ঘটেছিল অপ্রতিমের সাথে:
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ছিল।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের ব্যবহৃত আইফোনটি নিয়ে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশি তদন্ত ও প্রধান আসামিরা আটক:
হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়া তুহিন হোসেন নামে এক তরুণকে শনিবার বিকেলে আটক করা হয়। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তথ্য অনুযায়ী জড়িত অপর দুই সন্দেহভাজন শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম আহমেদকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকদের কাছ থেকে অপ্রতিমের মায়ের ছিনতাই হওয়া আইফোনটি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দামি মোবাইল ফোনটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে পাহাড়ে ডেকে নিয়ে মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
Leave a Reply