ঢাকা, ২৭ আগস্ট: দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১২ ভাদ্র)। ১৯৭৬ সালের এই দিনে (২৯ আগস্ট/১২ ভাদ্র) ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কালজয়ী এই সাহিত্যস্রষ্টা।
সংগ্রামী জীবন ও সাহিত্যকর্ম
১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নজরুল। ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বড় হওয়া এই কবি মাত্র ২৩ বছরের সংক্ষিপ্ত সক্রিয় সৃজনশীল জীবনে বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।
তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’, ‘ভাঙার গান’ এবং পত্রিকা ‘ধূমকেতু’-র মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তরুণদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেমন তাঁর কলম ছিল সোচ্চার, তেমনই প্রেম ও স্রষ্টার প্রার্থনায় তিনি রচনা করেছেন কালজয়ী গজল, হামদ ও নাত।
বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ও সম্মাননা
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবিকে সপরিবারে ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে এবং ১৯৭৬ সালে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।
আজকের নানা কর্মসূচি
৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ কর্মসূচি:
* শ্রদ্ধা নিবেদন: সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
* স্মারক আলোচনা: কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিশেষ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
* বিশেষ সম্প্রচার: বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে কবির জীবন ও কর্মের ওপর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হচ্ছে।
মৃত্যুর পাঁচ দশক পার হলেও অন্যায়, শোষণ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কবি নজরুলের বার্তা বাঙালির চেতনায় এখনও সমানভাবে ভাস্বর।
Leave a Reply