এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল মাধবপুর পৌরবাসীর জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভস্থ পানি পরিশোধন করে আয়রনমুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহ করা। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ করে চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২২ সালের ২৮ জুন মাধবপুর পৌরসভার কাছে প্ল্যান্টটি হস্তান্তর করা হলেও আজ পর্যন্ত পৌরবাসী সেখান থেকে এক ফোঁটা পানিও পাননি।
শুধু প্ল্যান্টটি বন্ধই নয়, এর পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা তিনটি গভীর নলকূপই বর্তমানে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি পরিশোধনের পর পৌরবাসীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনও স্থাপন করা হয়নি। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত কোটি টাকার এ অবকাঠামো এখন কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর পৌরবাসীকে আয়রনমুক্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্ল্যান্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। শ্যামলীপাড়ার উত্তরে স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে পৌরসভার জায়গায় এটি নির্মাণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে পরিশোধনের পর ৪৫০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড ট্যাংকে সংরক্ষণ করা হবে। পরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে পানি সরবরাহ করার কথা ছিল।
দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ চলার পর ২০২২ সালের ২৮ জুন প্ল্যান্টটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘণ্টায় ২ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হস্তান্তরের পর এটি আর চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকায় প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পৌরবাসী শংকর দেবনাথ বলেন, হস্তান্তরের পর প্ল্যান্টটি চালুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জনগণের প্রয়োজন মেটানোর কথা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি বছরের পর বছর পড়ে আছে। পানি উত্তোলনের তিনটি গভীর নলকূপও নষ্ট হয়ে গেছে। তার ওপর পানি সরবরাহের পাইপলাইন না থাকায় প্ল্যান্ট চালু হলেও পৌরবাসীর কাছে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেই। এটি চালু হলে আয়রনযুক্ত পানির সমস্যায় থাকা মানুষ উপকৃত হতেন।
পৌর নাগরিক সাদ্দাম বলেন, জনগণের অর্থে বিপুল টাকা ব্যয় করে একটি প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে, অথচ সেটি ব্যবহারই হচ্ছে না। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এর যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। যারা এর কার্যক্রম চালু করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে প্ল্যান্টটি সচল করার পাশাপাশি পৌরসভার অন্যান্য কার্যক্রমেও গতি আনার দাবি জানান তিনি।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্ল্যান্টটি চালুর বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
মাধবপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, তিনি মাধবপুরে যোগদানের পর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ওভারহেড ট্যাংক পরিদর্শন করেছেন। তখন জানতে পারেন, প্ল্যান্টটি হস্তান্তরের পর থেকে কখনো চালু হয়নি। কীভাবে দ্রুত এটি সচল করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রায় ২৫ হাজার পৌরবাসীর জন্য নির্মিত এ প্ল্যান্টটি দ্রুত সচল করে নিরাপদ পানি সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নষ্ট গভীর নলকূপগুলো মেরামত, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংস্কার এবং পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করা হলে সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি শেষ পর্যন্ত জনগণের কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
Leave a Reply