কুষ্টিয়ায় অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার অটো ও ম্যানুয়াল রাইস মিলগুলোতে চাল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো চাল উৎপাদন করতে না পারায় স্থানীয় বাজারসহ সারা দেশে চাল সরবরাহে মন্দা দেখা দিয়েছে, আর এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাতাল ও রাইস মিল মালিকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার খাজানগরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় অবস্থিত ছোট-বড় কয়েকশ রাইস মিল প্রতিদিন দেশের চালের চাহিদার একটি বড় অংশ জোগান দেয়। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলায় মিলগুলোর অটোমেটিক মেশিনারি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে জেনারেটর ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও বাড়তি জ্বালানি খরচের কারণে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
রাইস মিল মালিকদের ভাষ্যমতে, একটানা বিদ্যুৎ না থাকায় ধান শুকানো, সিদ্ধ করা এবং ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াজাতকরণ অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ ধান ও চাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাল বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাইস মিল মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে মিলের শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন, কিন্তু তাদের দিনমুজুরি ও বেতন নিয়মিতই মেটাতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে বাজারে চালের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং এর প্রভাব চালের দামের ওপর গিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা কুষ্টিয়ার শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply