রাজধানী ঢাকার অভিজাত আবাসিক এলাকা ও ভাড়া বাসায় গোপন ‘মিনি ল্যাব’ তৈরি করে কেটামিন, কুশ ও এডিএইচডির মতো ভয়ংকর ও অপ্রচলিত সিনথেটিক মাদক তৈরির একের পর এক আন্তর্জাতিক চক্র উন্মোচন করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বহুতল ভবনের আড়ালে অত্যন্ত গোপনে চলে আসছিল এই কৃত্রিম মাদক তৈরির কার্যক্রম।
যেভাবে ধরা পড়ল এই ল্যাব
ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির সূত্রধরে নজরদারি: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ডার্ক ওয়েব (Dark Web) নেটওয়ার্কে নজরদারি জোরদার করে। সন্দেহভাজন কিছু ব্যবহারকারী ক্রিপ্টোকারেন্সির (যেমন- বিটকয়েন) মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেন এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বাইরে (মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কা) পার্সেল পাঠাচ্ছিল।
চীনা নাগরিক ও স্থানীয় চক্র শনাক্ত: গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জানা যায়, একটি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সহায়তায় স্থানীয় অপরাধীরা ঢাকাকে ট্রানজিট ও উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। পরবর্তীতে উত্তরার মতো অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৩ জন চীনা নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন মূল হোতাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
ল্যাবের ভেতর সরঞ্জাম উদ্ধার: উদ্ধারকৃত ল্যাবে প্রবেশ করে দেখা যায়, বিভিন্ন ক্ষতিকারক ও নিষিদ্ধ কেমিক্যাল তরল থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পাউডার বা ক্রিস্টাল রূপ দেওয়া হচ্ছিল। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত কেটামিনকে কোকেন-সদৃশ পাউডারে রূপান্তরের সরঞ্জাম ও অবৈধ মদ তৈরির নানা রাসায়নিক উপকরণ জব্দ করা হয়।
সীমান্তের কঠোর নজরদারি এড়াতে এবং কম খরচে দ্রুত বাজারজাতের উদ্দেশ্যেই স্থানীয়ভাবে এমন ল্যাব স্থাপন করে সিনথেটিক মাদক বানানোর কৌশল নিয়েছে এই অপরাধী চক্রগুলো। অপরাধীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply