এম এ বাছির রাজা, মাধবপুর(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মাদ্রাসাছাত্র আশিকুল ইসলাম জনি (১৪)কে মারধরের পর জোরপূর্বক বিষ পান করিয়ে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯। গ্রেপ্তার হওয়া মাহবুব আলম মাহী (২৪) ওই মাদ্রাসার শিক্ষক বলে জানিয়েছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ২ নম্বর মনুমুখ ইউনিয়নের নটপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহবুব আলম মাহীর বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার এনাতাবাদ গ্রামে। তিনি মৃত মুকিদ মিয়ার ছেলে।
র্যাব-৯ সূত্র জানায়, নিহত আশিকুল ইসলাম জনি কোরআনের হাফেজ হওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় তিন বছর আগে মাধবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রা.) হিফজুল কোরআন সুন্নিয়া নূরানী মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সে আবাসিকভাবে সেখানে পড়াশোনা করছিল।
মামলার এজাহার ও র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদ্রাসার আর্থিক অনিয়ম এবং ছাত্রদের জন্য সংগৃহীত দান-খয়রাতের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল-আমিন হাসাইন ও শিক্ষক মাহবুব আলম মাহীর সঙ্গে জনির বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় জনিকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক বিষ পান করানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন সকাল ৬টার দিকে জনিকে অচেতন ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের তাকে ‘জিনে আছর করেছে’ বলে জানানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্বজনরা জনিকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশিকুল ইসলাম জনির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২৮ মে মাধবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মাধবপুর থানার মামলা নম্বর ৪৩। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনার পর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল মৌলভীবাজারে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মাহবুব আলম মাহীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব ৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
একটি উত্তর দিন